পরিবর্তন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রযুক্তিনির্ভর বিনামূল্যে ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা কর্মসূচির সূচনা

কলকাতা: দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সস্তাসুন্দর-এর সমাজকল্যাণ ও কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা শাখা পরিবর্তন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল একটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্ন থেকে অনুপ্রাণিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, স্থূলতা এবং অবসাদে আক্রান্ত সেইসব রোগীদের সঙ্গে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ও জনহিতৈষী অনুদানকে সরাসরি যুক্ত করা, যাঁরা আর্থিক কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সক্ষম নন। একটি স্বচ্ছ ও ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে যোগ্য উপভোক্তারা সস্তাসুন্দর অ্যাপের মাধ্যমে জিটো হেলথের মানসম্মত জেনেরিক ওষুধে প্রদত্ত ছাড় এবং উক্ত প্ল্যাটফর্মের ডিজিটাল স্বাস্থ্য কুপনের সমন্বয়ে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা মূল্যের ওষুধ পেতে পারবেন। এই ওষুধ রোগীদের বাড়িতেই অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই পৌঁছে দেওয়া হবে।

এছাড়াও এই উদ্যোগের আওতায় একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্ধারিত জিটো হেলথ কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকের পরামর্শ, বিভিন্ন রোগ নির্ণয়মূলক পরীক্ষা এবং ১,৫০০ টাকা মূল্যের ওষুধের সুবিধা প্রদান করা হবে। এই কেন্দ্রগুলি সস্তাসুন্দর-এর ক্লিনিক ও ফার্মেসি নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত।

এই উপলক্ষে পরিবর্তন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি শ্রীমতী আভা মিত্তল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—কেবলমাত্র ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকার কারণে কোনো ভারতীয় নাগরিক যেন দীর্ঘস্থায়ী রোগে কষ্ট না পান। এই উদ্যোগ সহৃদয় দাতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাপ্রার্থী রোগীদের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর সংযোগ গড়ে তুলেছে। আমাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা অংশীদার, ব্যক্তিগত দাতা, সস্তাসুন্দর এবং জিটো হেলথের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ, যাঁদের সহযোগিতায় এই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেয়েছে।”

পরিবর্তন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগে প্রাপ্ত প্রতিটি অনুদান ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করা হয় এবং তা যাচাইকৃত উপভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধায় রূপান্তরিত করা হয়। এর ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পরিমাপযোগ্য সামাজিক প্রভাব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *