কলকাতা, ৪ঠা জুলাই, ২০২৫ – পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান ডায়াগনস্টিক চেইন সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস এক অত্যাধুনিক ও বৃহত্তম জেনোমিক্স ল্যাব উদ্বোধন করলো এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রিউমাটোলজিস্ট এবং সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস-এর মেন্টর, প্রফেসর সুকুমার মুখার্জি, যিনি এই ক্ষেত্রে ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন।
পশ্চিমবঙ্গ* দেশের অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সময়ে রাজ্যে চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিষেবার এক নবজাগরণ দেখা যাচ্ছে। সেই প্রবাহে সামিল হয়ে, সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস রাজ্যে জেনোমিক ডায়াগনস্টিকস-এর দ্রুত প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। এই জেনোমিক্স ল্যাব ভবিষ্যতের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে তুলবে—প্রারম্ভিক ও নির্ভুল ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং উন্নত চিকিৎসা পরিকল্পনার মাধ্যমে।
বিশ্বব্যাপী জেনেটিক টেস্টিং বাজারের বর্তমান মূল্য ৩৮.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০২৪) এবং এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৮৬.৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে (CAGR: ২২.৫%)। এই প্রেক্ষাপটে, সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে ₹২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এই জেনোমিক্স ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য।
আগামী ২৪ মাসে *আরও ₹৪৬ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে *এশিয়ার অন্যতম উন্নত জেনোমিক্স ল্যাবরেটরি*। এই উদ্যোগ শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্যও এক বিশাল অগ্রগতি এবং দেশের জিন-ভিত্তিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এই অত্যাধুনিক জেনোমিক্স ল্যাবে রয়েছে:
- সাইটোজেনেটিক্স
- মাইক্রোঅ্যারে টেকনোলজি
- স্যাঙ্গার সিকোয়েন্সিং
- বহু সংখ্যক নেক্সট-জেনারেশন সিকোয়েন্সার (NGS)
এই প্রযুক্তিগুলোর সমন্বয়ে সম্পূর্ণ উন্নত জেনেটিক টেস্টিং সম্ভব, যা প্রদান করে পূর্বাভাসভিত্তিক, প্রতিরোধমূলক এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিষেবা।
এই ল্যাবের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব:
- ডাউন সিনড্রোম, এডওয়ার্ডস সিনড্রোম, পাতাও সিনড্রোম
- সেক্স ক্রোমোজোম অ্যানিউপ্লয়েডি এবং মাইক্রোডিলিশনস
এই তথ্যসমূহ ভবিষ্যত বাবা-মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে, যার সঙ্গে যুক্ত থাকছে বিশেষজ্ঞদের জেনেটিক কাউন্সেলিং সাপোর্টও।
সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস জেনোমিক্স ল্যাব অনকো-জেনোমিক্স ক্ষেত্রেও পথপ্রদর্শক ভূমিকা নিচ্ছে, যার মাধ্যমে ব্রেস্ট, ওভারিয়ান এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের জেনেটিক প্রবণতা শনাক্ত করা সম্ভব।
এই ল্যাবে জার্মলাইন ও সোমাটিক মিউটেশন প্রোফাইলিং-এর সুবিধাও রয়েছে, যার ফলে চিকিৎসকরা রোগীর জন্য নির্দিষ্ট ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার পরিকল্পনা*করতে পারবেন।
NGS-ভিত্তিক অনকোলজি প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে এখন চিকিৎসকেরা রোগের জন্য নির্ধারিত ‘অ্যাকশনেবল মিউটেশন’ শনাক্ত করতে পারেন, যা সুরক্ষাকে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রগতিশীল অনকোলোজি ডায়াগনস্টিক সেন্টার করে তুলেছে।
ল্যাবের টেস্টিং প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্যারিওটাইপিং দ্বারা, যার মাধ্যমে সব ৪৬টি ক্রোমোজোম দেখা যায় এবং কোন অংশ অতিরিক্ত বা অনুপস্থিত তা শনাক্ত করা সম্ভব।
এরপর ক্রোমোজোমাল মাইক্রোঅ্যারে-র মাধ্যমে ক্ষুদ্র জেনেটিক পরিবর্তনগুলি খুঁজে পাওয়া যায়,
FISH প্রযুক্তি দ্বারা নির্দিষ্ট জিনগত সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা হয়,
স্যাঙ্গার সিকোয়েন্সিং ব্যবহৃত হয় নির্দিষ্ট জিন পড়তে,
এবং NGS ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করা যায় জটিল রোগ নির্ণয়ের জন্য।
সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস-এর চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ সোমনাথ চ্যাটার্জি বলেন:
“চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিশাল পরিবর্তন আসছে। এই বিপ্লবের কেন্দ্রে রয়েছে জেনোমিক্স—যা মানব জিনোমের গোপন তথ্য উন্মোচন করে আগাম রোগ নির্ণয়, পূর্বাভাস এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার দিশা দেখাচ্ছে। ফিটাল মেডিসিন থেকে অনকোলজি এবং বিরল রোগ পর্যন্ত, জেনোমিক বিজ্ঞান ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবাকে নতুন রূপ দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত।”
সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস-এর CEO এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস রিতু মিত্তল বলেন:
“আমরা প্রি-নেটাল জেনেটিক্সে সম্পূর্ণ সমাধান দিচ্ছি, যেখানে ক্লিনিশিয়ান এবং পরিবারগুলো সর্বোচ্চ মানের ফিটাল, রিপ্রোডাকটিভ, পেডিয়াট্রিক এবং অনকো-জেনেটিক্স পরিষেবা পাবে, আর বাইরে পাঠানোর কোনও দরকার পড়বে না। আমরা এই ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ও আস্থা-যোগ্য নাম হতে চাই।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস চায় জেনোমিকস-চালিত ডায়াগনস্টিকের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি রেয়ার ডিজিজ ডায়াগনোসিস, নবজাতক স্ক্রিনিং ও প্রতিরোধমূলক জেনেটিক্স, গবেষণা ও পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ-এর দিকেও সম্প্রসারণ ঘটাবে।
সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস সম্পর্কে সংক্ষেপে*
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস বর্তমানে একটি সুপরিচিত ডায়াগনস্টিক সংস্থা হিসেবে গড়ে উঠেছে। তারা ২৩০০-এরও বেশি টেস্ট করে থাকে প্যাথলজি, রেডিওলজি এবং মেডিকেল কনসালটেন্সির অন্তর্ভুক্ত করে।
এই সংস্থার রয়েছে:
- একটি সেন্ট্রাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরি
- ৮টি স্যাটেলাইট ল্যাবরেটরি
- ৫৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার
- ১৬৬টি স্যাম্পল কালেকশন সেন্টার পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম এবং মেঘালয়ে
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং AI-চালিত স্মার্ট ল্যাব ব্যবহার করে, সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রোগীর সেবাকে আরও উন্নত করেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস তাদের IPO সম্পন্ন করে ₹৮৪৬.২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে, যা ১.২৭ গুণ সাবস্ক্রাইব হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংস্থার প্রতি আস্থার প্রতিফলন ঘটে।
For further information, please contact:
Candid by Paromita
Amar Adhikary: 9836539556

