মানসিক স্বাস্থ্যের উপর রাজ্যস্তরের কর্মশালা কলকাতায়

কলকাতা, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫:
সংবেদনশীল মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকে নজর রেখে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে বুধবার স্বাস্থ‌্য ভবনের ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার কনফারেন্স হল এ ডিপার্টমেন্ট অফ সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্ক এবং চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট (সিনি) এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল একটি রাজ্যস্তরের কর্মশালা। এই কর্মশালায় অংশ নেন রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক, চিকিৎসক, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নার্স, শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মীরা।

কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল—স্বাস্থ্যকর্মীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে তাঁরা রোগীদের সঙ্গে আরও সংবেদনশীল, সম্মানজনক ও বিভেদহীন আচরণ করতে পারেন, বিশেষ করে নারী, কিশোর-কিশোরী ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষেত্রে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের একাধিক শীর্ষ কর্তা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডাঃ স্বপন সরেন, ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিসেস; অধ্যাপক ডাঃ কৌস্তভ নায়েক, ডিরেক্টর, IH&FW; ডাঃ দেবাশিস হালদার, পাবলিক হেলথ উপদেষ্টা; অধ্যাপক ডাঃ কৌশিক কর, জয়েন্ট ডিরেক্টর অফ মেডিক্যাল এডুকেশন; ডাঃ সুব্রত রায়, আসিস্টেন্ট ডিরেক্টর (মেন্টাল হেলথ); ডাঃ সোমনাথ সরকার, জয়েন্ট ডিরেক্টর এবং সিনি-এর চিফ অফ প্রোগ্রামস শ্রী মেঘেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তারা বলেন, শুধু চিকিৎসা দিলেই হবে না, সম্মানজনক ভাবে রোগীর মানসিক অবস্থা, লিঙ্গ-সংক্রান্ত সমস্যা এবং সামাজিক চাপও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

কর্মশালায় লিঙ্গ ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক, নারী ও কিশোরদের বিশেষ সমস্যা, LGBTQ সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা, গার্হস্থ্য হিংসা ও মানসিক আঘাতের প্রভাব, এবং হাসপাতালের ভিতরে কীভাবে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করা যায়—এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীরাও এই কর্মশালায় অংশ নেন, কারণ রোগীর অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ ও আচরণের উপর।

একটি বিশেষ ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে সিনি-এর ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি অফিসার সুজয় রায় জলে ডুবে মৃত্যু সম্পর্কিত মানসিক আঘাত, লিঙ্গ-সংক্রান্ত চাপ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, অনেক সময় রোগীরা সরাসরি কিছু বলেন না, কিন্তু তাঁদের নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে গভীর মানসিক কষ্ট। সময়মতো সহানুভূতিশীল আচরণ ও জেলা মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি (DMHP)-এর মাধ্যমে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া গেলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

কর্মশালার শেষে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডিপার্টমেন্ট অফ সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্ক-এর বিভাগীয় প্রধান ময়াঙ্ক কুমার বলেন,
“এটি ধারাবাহিক কর্মশালার দ্বিতীয় পর্ব। আগামী দিনে রাজ্য জুড়ে আরও এমন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীদের সংবেদনশীল ও ট্রমা-ইনফর্মড পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *