কলকাতা │ আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৫-উপলক্ষে সিনি কলকাতায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের আন্তর্জাতিক যুব দিবসের থিম—“Localising Sustainable Development Goals (SDGs)”—সিনির দীর্ঘদিনের কাজের সঙ্গে গভীরভাবে মেলে। গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক পথশিশু দিবস থেকে শুরু করে, গ্রামীণ ভারতের অংশগ্রহণমূলক গ্রাম পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (GPDP) মডেল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সিনি শহুরে ওয়ার্ড–লেভেল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়নের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছে। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠান সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেল।
শিশু-বান্ধব শহর গড়ার লক্ষ্যে, সকলের চোখের আড়ালে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা—জলে ডুবে মৃত্যু—এই অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
জনাব ফয়জ আহমেদ খান, পৌর পিতা, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড
শ্রী ইন্দ্রনীল কুমার, পৌর পিতা, ৫১ নম্বর ওয়ার্ড
শ্রীমতি সবিতা রানি দাস, পৌর মাতা, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড
শ্রীমতি মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়, মেয়র–ইন–কাউন্সিল (সামাজিক কল্যাণ ও নগর দারিদ্র্য বিমোচন), কলকাতা কর্পোরেশন
স্টেট ট্রেইনার সায়নী অধিকারী, সঞ্চারী চক্রবর্তী, শ্রাবণী দাস, আত্রেয়ী ব্যানার্জি, বাবু দে এবং সিনির অন্যান্য আধিকারিকবৃন্দ।
সাধারণভাবে শহরে জলে ডুবে মৃত্যু ঘটে না মনে হলেও এই অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পরিসংখ্যান ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ঘটনা তুলে ধরা হয়। সিনির ন্যাশনাল অ্যাডভোকেজি অফিসার সুজয় রায় জানান,
পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন মানুষ জলে ডুবে মারা যান, যার মধ্যে প্রায় ১২ জনই শিশু—অর্থাৎ প্রায় প্রতি ঘণ্টায় একটি মৃত্যু। দুর্ঘটনা ঘটছে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ১১ আগস্ট: বজবজে ১৫ বছরের কিশোরের মৃত্যু, ৯ আগস্ট: হাওড়ায় বেসরকারি কলেজের সুইমিং পুলে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের মৃত্যু, ২ আগস্ট: উত্তর দমদমে জমা বৃষ্টির জলে ডুবে ৫ মাসের শিশুর মৃত্যু
১৫ জুন: রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার কাটতে গিয়ে ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যুর।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ‘স্ট্রিট চ্যাম্পিয়ন’রা একটি দাবি–সনদ প্রকাশ করেন, যার মূল বক্তব্য হলো
- কলকাতা পুরসভা ও এসএসকে স্কুলের পাঠ্যক্রমে জল–নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা
- স্কুলে জল–নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে কলকাতাকে, ভারতের প্রথম নিরাপদ শহর শিরোপার অধিকারী কর।
- সব শিশু ও তরুণদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত সাঁতার শেখার সুযোগ তৈরি করা
জনাব ফয়জ আহমেদ খান কিশোর–কিশোরীদের উদ্যম এবং প্রস্তাবিত সমাধানকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি শহর পরিকল্পনায় শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব সমর্থন করেন।
সিনির সহকারী পরিচালক ডঃ স্বাতী চক্রবর্তী বলেন—
“এসডিজির নানা লক্ষ্যপূরণের পাশাপাশি আমরা শিশু সুরক্ষাকে সর্বাগ্রে রেখেছি। আজ যুব সমাজও সেই কাজে আমাদের সঙ্গী হয়েছে।”

