মাদারহুড হসপিটালস কলকাতায় তাদের ২৫তম হাসপাতাল খুলে পূর্ব ভারতে মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বাড়াল  


কলকাতা, ২০ মে, ২৫: মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি একনিষ্ঠ ভারতের প্রধান নেটওয়ার্ক মাদারহুড হসপিটাল্স আজ পূর্ব ভারতে উল্লেখযোগ্য ভাবে তাদের প্রবেশের কথা ঘোষণা করল কলকাতায় অত্যাধুনিক একটি হাসপাতাল খোলার মাধ্যমে। দক্ষিণ কলকাতার কসবার রাজডাঙায় কৌশলগত ভাবে অবস্থিত এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি মাদারহুড-এর 25তম হাসপাতাল। তারা 12টি শহরে দ্রুতগতিতে তাদের নেটওয়ার্ক বাড়িয়ে চলেছে এবং তারা বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে উত্কর্ষের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে তারা পুরো অঞ্চলে মহিলা ও শিশুদের জন্য চিকিত্সা পরিষেবাকে বাড়িয়ে চলেছে কলকাতা এবং আশেপাশের শহরগুলোতে।   

এই হাসপাতাল থেকে সব ধরনের পরিষেবাই দেওয়া হবে। যেমন উন্নত প্রসূতিবিদ্যা (অত্যধিক ঝুঁকি বিশিষ্ট গর্ভাবস্থাকে সামলানোও এর অন্তর্ভুক্ত), স্ত্রী-রোগ সংক্রান্ত জটিল সার্জারি, ও সন্তান জন্ম সংক্রান্ত অত্যাধুনিক চিকিত্সা (IVF) থেকে শুরু করে নিওন্যাটোলজি (এই চিকিত্সা পরিষেবায় জটিল অসুস্থতায় আক্রান্ত নবজাতকদের জন্য লেভেল III NICU অন্তর্ভুক্ত) ও পেডিয়াট্রিক সুপার স্পেশ্যালিটি পর্যন্ত। এই সুসংহত পন্থার লক্ষ্য হল এক ছাদের নীচে মহিলাদের স্বাস্থ্য ও শিশুদের বিকাশের সম্পূর্ণ জীবনচক্রের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি দেওয়া। এই পরিষেবাগুলি প্রদান করা হবে মাদারহুড-এর নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বিশিষ্ট দর্শনকে পাথেয় করে। যা সহৃদয় ও রোগী-কেন্দ্রিক। 
   
মাদারহুড হসপিটাল্স-এর CEO শ্রী বিজয়রত্ন বেঙ্কটরমণ এই গোষ্ঠীর লক্ষ্য সম্পর্কে বললেন: “কলকাতায় আমাদের যে হাসপাতাল খোলা হল তা এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমরা শুধু একটা হাসপাতাল খুলছি না; বরং আমরা বিশ্বমানের ও সহমর্মিতায় পূর্ণ এক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছি। এই পরিষেবাকে গড়ে তোলা হয়েছে পূর্ব ভারতের মহিলা ও শিশুদের অনন্য চাহিদার কথা মাথায় রেখে। অত্যাধুনিক এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আছে উন্নত প্রযুক্তি এবং এখানে কাজ করছেন প্রথম সারির চিকিত্সা বিশেষজ্ঞরা। এই কেন্দ্র আমাদের এই দায়বদ্ধতারই মূর্ত রূপ যে আমরা চিকিত্সা পরিষেবার উত্কর্ষের ক্ষেত্রে এবং রোগীদের উন্নত অভিজ্ঞতা প্রদান করার ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। পূর্ব ভারতে আমরা একনিষ্ঠ ভাবে নিজেদের পরিষেবাকে সম্প্রসারিত করব, তারই প্রথম ধাপ হল কলকাতা। এরপর আরও অনেক শহরে আমাদের হাসপাতাল খোলা হবে।”
এই হাসপাতাল উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল আকর্ষণীয় এক আলোচনা সভা। যার বিষয় ছিল “মহিলাদের স্বাস্থ্য: ভারতের উন্নতির জ্বালানি”। কোনো দেশের অর্থনীতির বিকাশে মহিলাদের স্বাস্থ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেবিষয়ে প্যানেল মূল্যবান আলোচনা করে। মহিলাদের স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ শুধু সামাজিক বিকাশ নয়, এর ফলে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
‘আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অবস্টেট্রিক্স ও গায়নোকলোজি বিভাগের প্রাক্তন প্রফেসর তথা প্রধান গীতা গাঙ্গুলি মুখার্জি বলেন, ‘মহিলারা স্বাস্থ্যবান হলে কর্মশক্তিতে তাঁদের অংশগ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে এবং ফলত বাড়ে উৎপাদনশীলতা। সেজন্যই পরিচিত সাধারণ অসুখ যেমন রক্তাল্পতা, প্রজননে জটিলতা, পিসিওএস, এন্ডোমেট্রিওসিস এবং প্রজননতন্ত্রে যক্ষ্মার মতো রোগের চিকিৎসা খুব জরুরি। উন্নত মানের পুনরুৎপাদন ও মাতৃত্ব যত্ন পরিষেবার সুবিধা কাজে লাগানোর মাধ্যমে আমরা সরাসরি আরও প্রাণময়, সক্ষম এবং বিশ্বস্ত কর্মশক্তি তৈরি করছি। উপরন্তু, মাতৃত্বের স্বাস্থ্যে এই দৃঢ়প্রতিজ্ঞার বিস্তৃত প্রভাব রয়েছে, যা শিশুকে আরও স্বাস্থ্যবান করবে, নিয়ে যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বাস্থ্যবান শিশুর দিকে এবং এটাই হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের জন্য দুর্দান্ত মানব সম্পদ। তেমনি, আমাদের নবজাতকদেরও আধুনিক প্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল যত্নের মাধ্যমে সেরা সেবা প্রদান করতে হবে, যা NICU-তে উপলব্ধ।’

অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী, কোরিওগ্রাফার ও অভিনেত্রী তনুশ্রীশংকর নতুন মায়েদের বার্তা দিয়ে বলেন, ‘মাতৃত্ব একটি সুন্দর যাত্রা, যদিও অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে, যেমন নিদ্রাহীন রাত, শারীরিক পরিবর্তন, দ্বিগুণ দায়িত্ব। আপনার সহানুভূতি হয়ে ওঠে অতি শক্তিশালী এবং আপনার লালন পালন পৃথিবীতে সত্যিকারের ফারাক সৃষ্টি করে। নিজের প্রতি যত্ন নিন, শান্ত মুহূর্ত ও গোলমালের সময়। সন্তানের যত্ন বিশাল এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ যার মূল্য অনন্ত।’

আলোচনায় মহিলাদের স্বাস্থ্যের ক্রমবিকশিত পরিসর নিয়ে কথা হয়েছে। প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে ছিল, আগাম হস্তক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, অত্যন্ত ঝুঁকি প্রবণ গর্ভাস্থায় ও জটিল অসুস্থতার কবলে পড়া নবজাতকদের সমস্যা প্রতিকারে বিভিন্ন বিভাগের মানুষকে একসঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করা, এবং ভাল ফল পাওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য ভিত্তিক ও রোগী-কেন্দ্রিক পরিচর্যার জন্য আবশ্যিক দিকসমূহ।

মাদারহুড হসপিটাল্স, কলকাতার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
পূর্ব ভারতে প্রথম: এ অঞ্চলে মাদারহুড হসপিটাল্স-এর ফ্ল্যাগশিপ ফেসিলিটি।
সামগ্রিক পরিচর্যা: প্রসূতি বিদ্যা, স্ত্রীরোগ বিদ্যা (সেই সঙ্গে স্পেশ্যালাইজড সার্জারিগুলি), ফার্টিলিটি ও IVF, নিওন্যাটোলজি (লেভেল III NICU), জেনারেল পেডিয়াট্রিক্স, ও পেডিয়াট্রিক সার্জারি।
রোগী-কেন্দ্রিক পন্থা: ঘরোয়া পরিবেশ সেই সঙ্গে উত্কৃষ্ট চিকিত্সা পরিষেবা। 
জীবনচক্র পরিচর্যায় গুরুত্ব: ভ্রূণ অবস্থা থেকে শুরু করে কৈশোর ও পরিপূর্ণ নারী হয়ে ওঠা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনকে পূরণ করা। 
কৌশলগত অবস্থান: রাজডাঙা, কসবা, দক্ষিণ কলকাতা, আরও বেশি করে নাগালের মধ্যে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *