বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস উপলক্ষে সিকে বিড়লা হসপিটালস, সিএমআরআই (CMRI)-এর সাংবাদিক সম্মেলন; ব্রেইন টিউমার সার্জারির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করলেন নিউরোসার্জারি বিভাগের অধিকর্তা

কলকাতা, ৮ জুন, ২০২৬ — সিকে বিড়লা হসপিটালস, সিএমআরআই (CMRI) আজ বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস উপলক্ষে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। নিউরোসার্জারি বিভাগের অধিকর্তা ডা. অমিতাভ চন্দার নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসক এবং এই হাসপাতালে ব্রেইন টিউমার সার্জারি সম্পন্ন করা রোগীরা উপস্থিত ছিলেন। গত তিন দশকে নিউরোসার্জারি বা স্নায়ুশল্যচিকিৎসার পদ্ধতিতে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে ব্রেইন টিউমার ধরা পড়া রোগীদের ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তনগুলোর তাৎপর্য কী—তা এই অনুষ্ঠানে পর্যালোচনা করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রেইন টিউমার চিকিৎসার সামগ্রিক গতিপথ নিয়েও আলোচনা করা হয়। ‘প্রিসিশন মেডিসিন’ বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি—যেখানে টিউমারের জিনগত ও আণবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসার ধরন নির্ধারণ করা হয়—তা এখন বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোর গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর পরিসরে চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিকে বিড়লা হসপিটালস, সিএমআরআই-এর নিউরোসার্জারি বিভাগের অধিকর্তা ডা. অমিতাভ চন্দা বলেন, “গত এক দশকে ব্রেইন টিউমার সার্জারির পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং চিকিৎসার ফলাফলের ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। ইমেজিং প্রযুক্তির সহায়তায় এখন অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশের আগেই আমরা কথা বলা, নড়াচড়া, স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির মতো মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মানচিত্র বা অবস্থান চিহ্নিত করতে পারি। ‘নিউরোনেভিগেশন সিস্টেম’ অস্ত্রোপচারের সময় রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অস্ত্রোপচার চলাকালীন মনিটরিং ব্যবস্থা কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুপথ বা অংশ ঝুঁকির মুখে পড়লে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসক দলকে সতর্ক করে দেয়। ‘ফ্লুরোসেন্স-গাইডেড সার্জারি’ টিউমার টিস্যু এবং সুস্থ টিস্যুর মধ্যে এমন স্পষ্ট পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে, যা আগে সম্ভব ছিল না। ‘অ্যাওয়েক ক্রানিওটমি’ (যেখানে অস্ত্রোপচারের নির্দিষ্ট পর্যায়ে রোগী সচেতন থাকেন)-এর মাধ্যমে আমরা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি সর্বাধিক পরিমাণ টিউমার অপসারণ করতে পারি। এই প্রতিটি পদ্ধতিই সেই সব অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দিয়েছে, যা আগে অত্যন্ত দ্বিধার সাথে করা হতো কিংবা আদৌ করার কথা ভাবা হতো না।”

কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে সিকে বিড়লা হসপিটালস, সিএমআরআই-এর ইউনিট হেড ডা. সোমব্রত রায় বলেন, “বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসে আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল চিকিৎসাগত উৎকর্ষ সাধনই নয়, বরং সচেতনতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করাও। দ্রুত পরামর্শ গ্রহণ এবং সময়মতো রোগ নির্ণয় চিকিৎসার গতিপথ ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে আমূল বদলে দিতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সেশনগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়; যেখানে রোগী ও তাঁদের পরিচর্যাকারীরা রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রার কথা তুলে ধরেন এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা ও বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসা ব্যবস্থার (মাল্টিডিসিপ্লিনারি কেয়ার) গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।” টিউমারের ধরন নির্ণয়, অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা এবং চিকিৎসার ফলাফল বা ‘আউটকাম’ পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রয়োগ শুরু হয়েছে, যা এখন রোগীর ব্যক্তিগত চিকিৎসার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করছে। বর্তমানে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ন্যূনতম কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হয় এমন সব চিকিৎসা পদ্ধতি—যেমন এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি—উপলব্ধ রয়েছে। এই পদ্ধতিতে বাইরের কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই নাকের পথ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু টিউমারের চিকিৎসা করা সম্ভব হয়, যার ফলে রোগীর সেরে ওঠার সময় কমেছে এবং অস্ত্রোপচারজনিত শারীরিক ধকল বা আঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

‘বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস’ এমন একটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে—চিকিৎসাবিজ্ঞানের মাধ্যমে বর্তমানে যা অর্জন করা সম্ভব এবং রোগ নির্ণয়ের পর রোগী ও তাঁদের পরিবার চিকিৎসার বিষয়ে যা প্রত্যাশা করেন—এই দুয়ের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে। রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো (যেমন—দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, কারণহীন দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, খিঁচুনি, স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন বা ক্রমশ শারীরিক দুর্বলতা) সম্পর্কে সচেতনতা এবং সময়মতো স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের (নিউরোলজিস্ট) পরামর্শ নেওয়া—এ বিষয়গুলোই মূলত নির্ধারণ করে যে রোগীর জন্য চিকিৎসার কী কী বিকল্প বা সুযোগ রয়েছে।

সিএমআরআই (CMRI) সম্পর্কে
সিকে বিড়লা হাসপাতালের অন্তর্গত সিএমআরআই (CMRI) হলো কলকাতার একটি স্বনামধন্য ও এনএবিএইচ (NABH) স্বীকৃত মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল, যা ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ৪৪০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখানকার ইএনটি (ENT) বা নাক-কান-গলা বিভাগটি পূর্ব ভারতে এই সংক্রান্ত সমস্যার অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে তারা নিউরোসার্জারি, ম্যাক্সিলোফেসিয়াল, প্লাস্টিক এবং রোবোটিক সার্জারি বিভাগের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। এর ফলে নাক ও কানের পথ দিয়ে জটিল ব্রেন টিউমার অপসারণ, কোনো কাটাছেঁড়ার দাগ ছাড়া রোবোটিক থাইরয়েড সার্জারি এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে জটিল পুনর্গঠনমূলক (রিকনস্ট্রাক্টিভ) চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।

সিকে বিড়লা গ্রুপ সম্পর্কে
সিকে বিড়লা গ্রুপ হলো একটি ভারতীয় বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠী, যার বার্ষিক আয় কয়েক বিলিয়ন ডলার। ৩৫,০০০-এরও বেশি কর্মী নিয়ে এই গ্রুপটি ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০টিরও বেশি উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনা করছে। প্রযুক্তি, অটোমোটিভ (যানবাহন শিল্প), গৃহ ও নির্মাণ সামগ্রী এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *