কলকাতা, ৫ জুন ২০২৬: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে যখন ঐতিহ্যবাহী ট্রামটি চলছিল, তখন তা শুধু যাত্রীই বহন করেনি, বরং বহন করেছে স্থায়িত্ব, জনস্বাস্থ্য এবং এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে শহরের পরিচয় বহনকারী ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক শক্তিশালী বার্তা। ঐতিহ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য সমন্বয়ে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি (সিটিসি)-র সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করে, যেখানে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, যা একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক হিসেবে পরিচিত ট্রাম আজও দেশের অন্যতম পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা। এই সচেতনতামূলক ট্রামযাত্রা গড়িয়াহাট থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত পরিচালিত হয়, যা কলকাতার দুই ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলকে যুক্ত করার পাশাপাশি পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা শহরজুড়ে পৌঁছে দেয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশবিহারী কেন্দ্রের বিধায়ক ড. স্বপন দাশগুপ্ত, ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন আধিকারিকবৃন্দ এবং মণিপাল হসপিটালসের প্রতিনিধিরা, যার মধ্যে ছিলেন ড. রানা রাঠোর রায়, কনসালট্যান্ট – ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ও লিড কনসালট্যান্ট – ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ড. দেবরাজ যশ, ডিরেক্টর – পালমোনোলজি, মণিপাল হসপিটালস কলকাতা।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিশেষভাবে সজ্জিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস সচেতনতা ট্রাম’-এর উদ্বোধনের মাধ্যমে, যা পরিবেশ রক্ষা, টেকসই নগরজীবন এবং সামাজিক কল্যাণের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতীক। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস পরিবেশগত স্বাস্থ্য ও মানবস্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি কলকাতার অন্যতম প্রিয় ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সম্মান জানায়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল ‘মণিপাল প্রকৃতি মিত্র’ কার্ডের উদ্বোধন। এটি সিটিসি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা প্রদানকারী একটি এক্সক্লুসিভ হেলথকেয়ার প্রিভিলেজ কার্ড। কলকাতার ট্রাম ঐতিহ্য রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের কল্যাণে মণিপাল হসপিটালসের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. রানা রাঠোর রায় বলেন, “আমাদের পরিবেশের স্বাস্থ্য সরাসরি আমাদের হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বায়ুদূষণের বৃদ্ধি, নগরজীবনের চাপ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হৃদ্রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মানুষকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে, নিয়মিত প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে উৎসাহিত করতে চাই। একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে এমন সচেতন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, যা মানুষ এবং পৃথিবী—উভয়ের জন্যই উপকারী।”
ড. দেবরাজ যশ বলেন, “আমাদের শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্য আমরা যে পরিবেশে বাস করি তার গুণগত মানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বায়ুদূষণ এখনও হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), অ্যালার্জি এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। এই ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ মানুষকে বিশুদ্ধ বায়ুর গুরুত্ব, শ্বাসযন্ত্রের রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করলে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুস্থ ফুসফুস ও উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে পারব।”
মণিপাল হসপিটালস বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ট্রাম কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় চালু করল ‘মণিপাল প্রকৃতি মিত্র’ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড

