কলকাতা, ৩১ জুলাই, ২০২৫:রক্তের ক্যানসার (লিউকিমিয়া), থ্যালাসেমিয়া, অ্যাপ্লাস্টিকg অ্যানিমিয়া, লিম্ফোমা (ননহজকিন্স), মায়লোমা, ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি ডিসর্ডার, ইনহেরিটেড বোন ম্যারো ফেলিওর ইত্যাদি নানান রক্তের অসুখ ধরা পড়লে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অন্যান্য চিকিৎসা করে সাময়িক স্বস্তি পেলেও অসুখের ভোগান্তি লেগেই থাকে। শরীর মনের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকে নানান অসুবিধের সম্মুখীন হতে হয়। শুরুতেই বোন ম্যারো ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন (BMT) করিয়ে নিলে রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। জানালেন রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ইস্টার্ণ ইন্ডিয়া ব্লাড ম্যারো সেল্যুলার থেরাপির (EIBMCT 2025) তৃতীয় বার্ষিক সম্মেলনের অরগানাইজিং চেয়ারপার্সন, ডা. তুফান দলুই । এবারের সম্মেলনে রক্তের অসুখের চিকিৎসার শুরুতেই বোনম্যারো (ব্লাডম্যারো) প্রতিস্থাপনের সুবিধে নিয়েআলোচনা হবে। এই প্রসঙ্গে জেনে রাখা ভাল যে হাড়ের মধ্যে থাকা অস্থিমজ্জা বা বোনম্যারো হল রক্ত তৈরির ফ্যাক্টরি। রক্তের নানান গ্রুপের মত বোনম্যারো থেকে নেওয়া স্টেম সেলেরও বিভিন্ন গ্রুপ থাকে, এর নাম এইচএলএ।ম্যাচ করলে তবেই বোনম্যারো প্রতিস্থাপন সম্ভব। দুরকম ভাবে BMT করা হয়। এক অটোলোগাস ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট অর্থাৎ রোগীর নিজের সুস্থ অস্থিমজ্জা নিয়ে রোগীকে দেওয়া হয়। আর অ্যালোজেনিক ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট এর ক্ষেত্রে দাতা অন্য জন। ভাল হয় রোগীর নিজের ভাইবোন। তা না হলে বাবা মায়ের মধ্যে একজনের থেকে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ৫০% এইচএলএ ম্যাচ করার সম্ভাবনা থাকে। EIBMCT 2025 -এর অরগানাইজিং সেক্রেটারি রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে জানালেন যে বোন ম্যারো ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন শুনে বড়সড় সার্জারি মনে হলেও আসলে রক্ত সঞ্চালনের মত প্যাকেটে করে রোগীর শরীরে নানান সাবধানতা অবলম্বন করে বোন ম্যারো দেওয়া হয়।
ব্লাড ক্যানসার অর্থাৎ লিউকিমিয়া থেকে শুরু করে, থ্যালাসেমিয়া, মায়লোমা ইত্যাদি ক্রনিক রক্তের অসুখ যেখানে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন করা ছাড়া উপায় থাকে না, সেই সব অসুখের একমাত্র নিরাময় বোনম্যারো ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন। প্রাথমিক ভাবে খরচ সাপেক্ষ মনে হলেও একবারে খরচ করে অসুখ সারিয়ে তোলা যায়। নিয়ম করে রক্তসঞ্চালন ও অন্যান্য ওষুধ ও জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় না, জানালেন ডা তুফান দলুই। দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় কলকাতা সহ পূর্ব ভারতে আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করা হয়।

