আজ ৫ ই জুলাই,শনিবার । সকাল থেকে বৃষ্টিমুক্ত মেঘলা আকাশ। মনে হয় কে যেন মাথার উপর ছাতা ধরে আছে । অবশ্য আমার কাছে আকাশটা একটা মস্তবড় ছাতার মতো লাগে। সকাল থেকে মনোরম সুখানুভূতির বাতাস বইছে । এমন বসন্তের বাতাসে কদম ফুল ফোটে,আকন্দ ফুল। আজকে রথ যাত্রার পর্ব শেষ হয় সুল্টো রথ থেকে উল্টো রথে । আমাদের এখানকার রথ যাত্রার পথ মাত্র এক কিলোমিটার। রথ তোলার মোড় থেকে হরিশংকর পুর পঞ্চানন মন্দির। এখন রথের চাকা উল্টোভাবে যাবে অর্থাৎ হরিশংকর পুর থেকে রথ তোলার মোড়ে । আনন্দ, হৈচৈ ,নাচানাচির মধ্যে দিয়ে রথের চাকা উল্টোভাবে ঘুরে তার যাত্রা পথ সম্পন্ন করবে । একঘেয়েমির, বর্ষার পচপচানির মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। আমাদের মনে কোথাও একটা আনন্দের ফুলকি উঁকি মারে । দুর্গা পূজার পর রথ যাত্রা খুব ধুমধাম করে পালিত হয় । দুর্গা পূজার মতো রথ যাত্রা এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আগে রথ বিশেষ জায়গায় রাজবাড়ী, জমিদার বাড়িতে হতো। এখন তা নয়। আগে আমাদের এখানে হতো না। এখন এখানকার রথ যাত্রা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ।
অনেককে দেখেছি উল্টো রথের রশি টানতে চায় না । উল্টো রথ নাকি সৌভাগ্যের প্রতীক নয় । আমি কিন্তু রথের রশিতে টান দিয়েছি যেমনটা সুল্টো-রথে টান দিয়েছিলাম । আমাদের ভাগ্যলিপি তো রচনা হয়ে গেছে। রশিতে টান দিলে কি আর না দিলে কি । উল্টো রথ চলে উল্টো পথে নয়,সোজা পথে। জন্ম থেকে মৃত্যুর একটা লম্বা জার্নির মতো সুল্টো রথ থেকে উল্টো রথ যাত্রা।
রথ যাত্রা উপলক্ষে ক্লাবে ক্লাবে খিচুড়ি,কেউ মিহিদানা সঙ্গে এক গ্লাস জল, কেউবা ভিজে ছোলার সঙ্গে এক গ্লাস গুড় জল দিচ্ছে । অনেকে খুব মন দিয়ে খিচুড়ি খেতে দেখছি। মনে হয় খুব ভালো হয়েছে। বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে রথ চলে যাওয়ার পর রাস্তা একটু ফাঁকা হয়। এদিক ওদিক ঘোরাঘুরির পর ক্লাবের বাইরের রকে গিয়ে বসি । আমাকে একজন খিচুড়ি খেতে দেয় । দারুণ হয়েছে। দীপক আর আমি দুজনে গরম গরম দু প্লেট পেটে চালান করে দিলাম।
আনন্দ আর তার ভাই নিরানন্দ দুজনে রথ যাত্রায় অংশ গ্রহন করে। আনন্দ রথ চালায় ,রথের রশি ধরে টান দেয়, মহাধুমধামে রথ যাত্রায় অংশ গ্রহন করে আর ভাই নিরানন্দ খাবারের দোকান ,খেলনা দোকান, নার্সারীর দোকানের পসরা সাজিয়ে আশা, উৎসাহ ,উদ্বিগ্ন নিয়ে বসে আছে । বিক্রিও হচ্ছে। রথ দেখা কলা বেচার মতো। রথ চলে যাওয়ার পর প্লাস্টিকের পাতা, প্লাস্টিকের গ্লাস রাস্তায় দুপাশে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মন বড় কষ্ট দেয়। ক্লাবের কেউ একজন ঝাটিয়ে জড় করছে দেখে খুব ভালো লাগে। রথের এমন পরিবেশ বান্ধব নির্ভেজাল আনন্দ আমরা সবাই চাই। মাইকের দাপাদাপি ছিল না। Morning shows day. সত্যি দিনটা ভাল কাটল জগন্নাথ দেবের কৃপায়। তিনি কৃপাময়। জগন্নাথ দেবের কৃপা সবার মাথায় বর্ষিত হোক।

