নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:
রথযাত্রার পবিত্র আবহে ভক্তি, আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল শহর। ওডিসি নৃত্যশিল্পী সুবিকাশ মুখার্জীর বাড়িতে জগন্নাথদেবের বিশেষ পূজো ও রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন এক অন্য মাত্রা পেল ভক্তদের উপস্থিতি ও আন্তরিকতায়।
“জয় জয় জয় কৃষ্ণ” ধ্বনিতে মুখরিত পরিবেশে শুভ সন্ধ্যার প্রহরে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সুবিকাশ মুখার্জী জানান, সারা বছর ধরে তিনি এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। তাঁর কথায়, “আমার কাছে এই দিনটি বুদ্ধ পূজো, দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর মতোই আনন্দের। আমি একে শুধু রথযাত্রা বলি না, আমার কাছে এটি জগন্নাথ পুজো। প্রভু জগন্নাথ ছাড়া আমি এক মুহূর্তও চলতে পারি না।”
জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে নিজের বাড়িতেই জগন্নাথদেবের প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। যদিও ১৯৯৩ সালে দারুব্রহ্ম নিয়ে আসেন, কিন্তু পরবর্তীতে স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী পূজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তখন থেকেই প্রতিবছর নিষ্ঠাভরে সম্পন্ন হয়ে আসছে এই পূজা, যেখানে ষোড়শোপচার মেনে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রথযাত্রা ও নবকীর্তন। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রভুকে রথে বসিয়ে কীর্তনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। রথটি স্থানীয় অষ্টজাত দুর্গামন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রভু সাত দিন অবস্থান করবেন। এই সময়ে নৃত্যপূজা, ভোগ, আরতি সহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালিত হয়।
সুবিকাশবাবু আরও জানান, তাঁর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত মূল মূর্তিটি অচল থাকলেও রথযাত্রার জন্য একটি প্রতিচ্ছবি মূর্তি ব্যবহৃত হয়, যেখানে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীকে নিয়ে রথ বের হয়। উল্টো রথ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ভোগ ও আরতি অনুষ্ঠিত হয়, বৈষ্ণবীয় শুদ্ধাচার মেনে।
ওডিসি নৃত্যশিল্পী হিসেবে জগন্নাথদেবের প্রতি তাঁর ভক্তি আরও গভীর। মঞ্চে ওঠার আগে তিনি সর্বদা জগন্নাথ স্বামীকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। তাঁর বিশ্বাস, “প্রভুই আমাদের পথ দেখান, ভবিষ্যতেও দেখাবেন।”
এই আয়োজন সফল করতে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও পুরোহিতের আন্তরিক সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি। সব মিলিয়ে, ভক্তি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধনে সুবিকাশ মুখার্জীর বাড়ির এই জগন্নাথ পুজো যেন হয়ে উঠেছে এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
রথযাত্রার পবিত্র আবহে ভক্তি, আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল শহর

