ভারত, ২২ জুন ২০২৬: গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সুসংহত সহযোগিতার লক্ষ্যে বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, মেসরা (বিআইটি মেসরা) এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, খড়গপুর (আইআইটি খড়গপুর)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদী একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে (যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো সম্ভব), যার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যৌথ পিএইচডি তত্ত্বাবধান, গবেষণাগার বা ল্যাবরেটরি ব্যবহারের সুবিধা ভাগ করে নেওয়া, মেধা-সম্পদ (intellectual property) উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ এবং নানাবিধ যৌথ একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম।
বিআইটি মেসরার উপাচার্য অধ্যাপক ইন্দ্রনীল মান্না এবং আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইটি মেসরার গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক ডিন (DRIE) অধ্যাপক রাজু পোদ্দার; বিআইটি মেসরার উপাচার্যের মনোনীত প্রতিনিধি অধ্যাপক সুদীপ দাস; আইআইটি খড়গপুরের বায়ো-সায়েন্সেস বিভাগের ডিন অধ্যাপক রামকৃষ্ণ সেন; আইআইটি খড়গপুরের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক পবিত্র মিত্র এবং আইআইটি খড়গপুরের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অর্ণব রায়।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অধ্যাপক ইন্দ্রনীল মান্না বলেন, “আইআইটি খড়গপুরের সাথে এই সহযোগিতা বিআইটি মেসরার একাডেমিক উৎকর্ষ সাধন, প্রভাবশালী গবেষণা এবং উদ্ভাবন-চালিত প্রবৃদ্ধির যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোতে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়েছি।”
এই চুক্তির মাধ্যমে এমন দুটি প্রতিষ্ঠান একত্রিত হলো যাদের যাত্রার সূচনা হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতার ঠিক পরবর্তী দশকে। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিআইটি মেসরা ১৯৮৬ সালে ‘ডিমড ইউনিভার্সিটি’ বা বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে। অন্যদিকে, ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত আইআইটি খড়গপুর হলো প্রথম আইআইটি এবং এটি ‘জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান’ (Institute of National Importance) হিসেবে স্বীকৃত।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতাভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের যৌথ তত্ত্বাবধান, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ইন্টার্নশিপ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থার কাছে যৌথভাবে গবেষণার প্রস্তাবনা জমা দেওয়া। এর আওতায় গবেষণা সুবিধা ও অনুষদ উন্নয়ন কর্মসূচির যৌথ ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মী ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং সেমিনার, কর্মশালা, GIAN কোর্স ও মাইক্রো-ক্রেডিট কোর্সের মতো যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই চুক্তির অধীনে উভয় প্রতিষ্ঠান একটি যৌথ সমন্বিত এম.টেক.–পিএইচডি (M.Tech.–Ph.D.) কর্মসূচি এবং ডুয়াল-ডিগ্রি বা দ্বৈত-ডিগ্রি চালুর সম্ভাব্যতাও খতিয়ে দেখবে। উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ‘যৌথ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন কমিটি’ (Joint MoU Implementation Committee) এর অগ্রগতির বিষয়টি তদারকি করবে এবং প্রতি ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনা করবে।
বিশেষ করে বিআইটি মেসরা (BIT Mesra)-র শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমঝোতা স্মারকটি আইআইটি খড়গপুরের গবেষণা পরিকাঠামো ও অনুষদ সদস্যদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ করে দেবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যৌথ গবেষণা প্রকল্প, আইআইটি খড়গপুরের বিশেষায়িত গবেষণাগার পরিদর্শন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যৌথ তত্ত্বাবধান এবং এই সহযোগিতার আওতায় পরিচালিত বিশেষায়িত একাডেমিক ও গবেষণা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করবে।
যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার লক্ষ্যে বিআইটি মেসরা (BIT Mesra) এবং আইআইটি খড়গপুরের (IIT Kharagpur) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

