মেরু ও মহাসাগর গবেষণায় ভারতের সাফল্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশ্বমানের জাদুঘর তৈরির জন্য এনসিপিওআর (NCPOR)-এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করল সিএমডি (CMD)
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামস’ (NCSM)-এর সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সংস্থা ‘ক্রিয়েটিভ মিউজিয়াম ডিজাইনার্স’ (CMD), ভারতের প্রথম মেরু ও মহাসাগর বিষয়ক জাদুঘর (Polar & Ocean Museum) গড়ে তোলার লক্ষ্যে গোয়ার ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশান রিসার্চ’ (NCPOR)-এর সাথে একটি চুক্তি (MoA) স্বাক্ষর করেছে। কলকাতার সিএমডি কার্যালয়ে আয়োজিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপিওআর-এর অধিকর্তা ড. থাম্বান মেলোথ; বিজ্ঞানী ‘জি’ ও গ্রুপ ডিরেক্টর ড. রাহুল মোহন; বিজ্ঞানী ‘ই’ এবং আউটরিচ ও কো-অপারেশন বিভাগের ইন-চার্জ ড. অবিনাশ কুমার; এবং বিজ্ঞানী ‘ই’ ও এস্টেট বিভাগের ইন-চার্জ শ্রী রবিকান্ত শর্মা। সিএমডি-র প্রতিনিধিত্ব করেন সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী অমিতাভ; এমডি-র উপদেষ্টা শ্রী সুব্রত কুমার মিশ্র; কিউরেটোরিয়াল বিশেষজ্ঞ শ্রী নটরাজ দাশগুপ্ত; কিউরেটর সুশ্রী দেবলিনা চক্রবর্তী; প্রোডাকশন অ্যান্ড ডিজাইন এক্সিকিউটিভ সুশ্রী পল্লবী কর্মকার এবং প্রকল্পের সাথে যুক্ত অন্যান্য আধিকারিকরা।
গোয়াতে এনসিপিওআর-এর ক্যাম্পাসে প্রস্তাবিত এই মেরু ও মহাসাগর বিষয়ক জাদুঘরটি গড়ে তোলা হবে। ভারতের মেরু ও মহাসাগর গবেষণা কর্মসূচির বিজ্ঞান, ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। গোয়ার মনোরম উপকূলরেখা বরাবর অবস্থিত এই জাদুঘরটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হবে এবং এমনভাবে নকশা করা হবে যাতে দর্শকরা এক গভীর ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিখতে পারেন। উদ্ভাবনী প্রদর্শনী ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দর্শকরা ক্রায়োস্ফিয়ার (বরফাবৃত অঞ্চল), মেরু পরিবেশ, মহাসাগর এবং এই চরম ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে ভারতের বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার এক রোমাঞ্চকর যাত্রায় শামিল হতে পারবেন।
দর্শকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এই জাদুঘরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেমন—ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR), ইমার্সিভ মাল্টিমিডিয়া পরিবেশ, ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রদর্শনী, ডাইনামিক প্রজেকশন এবং উদ্ভাবনী গল্প বলার কৌশল (storytelling techniques) ব্যবহার করা হবে। প্রথাগত জাদুঘরের বিন্যাস বা লেআউট থেকে বেরিয়ে এসে এখানকার গ্যালারিগুলিতে বিষয়ভিত্তিক ও কাহিনি-নির্ভর পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে; যেখানে প্রতিটি বিভাগ অন্বেষণ, আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক সাফল্যের এক একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় তুলে ধরবে। অ্যান্টার্কটিকা অভিযান ও ভারতের মেরু বিষয়ক কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে তৈরি ইন্টারঅ্যাক্টিভ গ্যালারি, সংরক্ষিত আলোকচিত্রের সংগ্রহ, উন্মুক্ত স্থাপনা এবং সব বয়সের দর্শকদের আকৃষ্ট করার মতো নানা ধরণের অভিজ্ঞতা ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা হিমবাহ, মেরু অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র, গভীর সমুদ্র, জলবায়ু সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং বিশ্বব্যাপী মেরু ও সমুদ্র গবেষণায় ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করবেন।
এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ক্রিয়েটিভ মিউজিয়াম ডিজাইনার্স’ (CMD)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী অমিতাভ বলেন, “এই যুগান্তকারী প্রকল্পটি এমন সব উদ্ভাবনী জাদুঘর-অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিএমডি (CMD)-র অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে, যা জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোকে আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য উপায়ে তুলে ধরে। প্রস্তাবিত ‘পোলার অ্যান্ড ওশান মিউজিয়াম’ বিজ্ঞান, নকশা, প্রযুক্তি এবং গল্প বলার শৈলীকে একসূত্রে গাঁথবে।”

