বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ধূমপানমুক্ত ভবিষ্যতের বার্তা দিতে এক মঞ্চে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও তারকারা

কলকাতা, ৩০ মে ২০২৬: দেশে তামাক সেবনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট একটি বিশেষ সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রিন্সিপালস’ কনক্লেভ-এর আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, ছাত্রছাত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হয়ে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তামাকমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে উৎসাহিত করা, প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বাড়ানো এবং আগামী প্রজন্মকে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা। আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে অল্প বয়স থেকেই সচেতনতা, কাউন্সেলিং এবং নিয়মিত প্রচারের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়, যাতে তরুণ প্রজন্ম সঠিক ও স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিনোদন জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন ডা. কুণাল সরকার, ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জারি, মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর ক্লাস্টার; ডা. দিলীপ কুমার, ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস; ডা. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর, মণিপাল অনকোলজি সার্ভিসেস ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – হেড অ্যান্ড নেক অনকোলজি সার্জারি; ডা. দেবরাজ যশ, ডিরেক্টর – পালমোনোলজি; ডা. হর্ষ ধর, এইচওডি ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি; ডা. কিন্শুক চ্যাটার্জি, কনসালট্যান্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি; ডা. সুদীপ দাস, এইচওডি ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – মেডিক্যাল অনকোলজি; ডা. দেবাঞ্জলি দত্ত, কনসালট্যান্ট – রেডিওলজি এবং অরুণিমা দত্ত, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দীপক ভেনুগোপাল, রিজিওনাল সিওও, সাউথ অ্যান্ড ইস্ট রিজিয়ন, মণিপাল হসপিটালস এবং ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল ডিরেক্টর – ইস্ট রিজিয়ন, মণিপাল হসপিটালস।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট গায়ক অনুপম রায় এবং অভিনেতা দেবপ্রিয় মুখার্জি। শিক্ষাজগতের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. জয়দীপ সারঙ্গী, প্রিন্সিপাল – নিউ আলিপুর কলেজ; ডা. ইন্দ্রিলা গুহ, প্রিন্সিপাল – বাসন্তী দেবী কলেজ; প্রফেসর বাসব চৌধুরী, প্রিন্সিপাল – হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি; এবং ডা. সুবীর সেন, প্রিন্সিপাল – ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস স্কুল অব বিজনেস ম্যানেজমেন্ট। লোরেটো কলেজ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্রছাত্রীরাও আলোচনায় অংশ নেন এবং তামাকবিরোধী সচেতনতার প্রসারে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কনক্লেভে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা ছিল। অনকোলজি, কার্ডিওলজি এবং পালমোনোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা তামাক সেবনের কারণে বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। এছাড়া ধূমপানের আসক্তি রোধে যৌথ উদ্যোগ এবং তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তুলতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা নিয়ে দুটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে ডা. সৌরভ দত্ত বলেন, “তামাক এখনও বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসার এবং বহু প্রাণঘাতী রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু তামাকের কারণে হয়। ভারতে প্রতিবছর প্রায় ১৩.৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু তামাক সেবনের সঙ্গে যুক্ত। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, তরুণদের মধ্যে ধূমপান ও ভ্যাপিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে। তাই সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ছাত্রছাত্রী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক এবং জনপরিচিত ব্যক্তিদের একত্রিত করে অর্থবহ আলোচনা শুরু করতে চেয়েছি, যাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে উৎসাহিত করা যায় এবং তামাকজনিত রোগের বোঝা কমানো সম্ভব হয়।”
ডা. কুণাল সরকার বলেন, “এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি তরুণ প্রজন্মের আচরণগত পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারা শিক্ষার্থীদের সঠিক ও স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তামাকের আসক্তি শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না, এটি মানসিক ও সামাজিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে দেখা জরুরি।”

নিজের বক্তব্যে ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত বলেন, “মণিপাল হসপিটালসে আমরা বিশ্বাস করি যে স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র হাসপাতালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, ভারতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৮.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো ধরনের তামাক ব্যবহার করে। এটি দেখায় যে অল্প বয়সেই তামাকের সংস্পর্শ এবং সমবয়সীদের প্রভাব তরুণদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং তামাকবিরোধী সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে সচেতন আলোচনা গড়ে তুলতে চেয়েছি। শিক্ষাবিদ, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক এবং জনপরিচিত ব্যক্তিদের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করতে দেখে আমরা উৎসাহিত। ভবিষ্যতেও এমন আরও অর্থবহ সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা তাঁদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *