কলকাতা, ২৭ মে ২০২৬: বিশ্ব জরুরি পরিষেবা দিবস উপলক্ষে সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট তাদের নতুন জরুরি পরিষেবা উদ্যোগ “ওয়ান স্ক্যান ক্যান সেভ আ লাইফ” চালু করল। এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গুরুতর পরিস্থিতিতে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডা. ইন্দ্রনীল দাস, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও এইচওডি – অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি কেয়ার, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস; ডা. সুজয় দাস ঠাকুর, কনসালট্যান্ট ও ইন-চার্জ – ইমার্জেন্সি মেডিসিন, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর এবং ডা. কিশেন গোয়েল, কনসালট্যান্ট ও এইচওডি – ইমার্জেন্সি, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহুল প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি “ফুলপিশি অ্যান্ড এডওয়ার্ড”-এর অভিনেতারাও। ছবিটি পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁদের উপস্থিতি এই উদ্যোগে এক বিশেষ আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সচেতনতা, প্রস্তুতি ও দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবার গুরুত্বের বার্তা আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দেয়।
এই উদ্যোগে একটি কিউআর-ভিত্তিক জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন, নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে পারবেন এবং দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পেতে পারবেন। বিশেষ করে “গোল্ডেন আওয়ার”-এর সময়, অর্থাৎ জরুরি পরিস্থিতির পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত চিকিৎসা পেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। এই প্রযুক্তি মণিপাল অ্যাম্বুল্যান্স রেসপন্স সার্ভিস (MARS)-এর সঙ্গে যুক্ত, যার ফলে দ্রুত সমন্বয় ও সময়মতো চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি চারজন মৃত্যুর মধ্যে প্রায় একজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে প্রচুর মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, “গোল্ডেন আওয়ার”-এর মধ্যে চিকিৎসা শুরু হলে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এছাড়াও, ভারতে প্রতি বছর প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। ট্রমা ও অর্থোপেডিক চোটও জরুরি চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কারণ।
স্নায়ুজনিত জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে ডা. জয়ন্ত রায়, ডিরেক্টর ও অ্যাডভাইজর এবং রিজিওনাল হেড (ইস্ট) – নিউরোলজি, মণিপাল হসপিটালস বলেন, “স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বলা হয় ‘টাইম ইজ ব্রেন’, কারণ স্ট্রোক শুরু হওয়ার পর প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লক্ষ ব্রেন সেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসায় দেরি হলে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা বা মৃত্যুও হতে পারে। তাই দ্রুত উপসর্গ চিহ্নিত করা, তাড়াতাড়ি জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়া খুবই জরুরি। এতে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়ে এবং জটিলতা কমে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত জরুরি পরিষেবা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন, যাতে রোগীরা গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যেই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পান।”
হৃদরোগজনিত জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে ডা. দিলীপ কুমার, ডিরেক্টর ক্যাথ ল্যাব, সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, ডিভাইস ও স্ট্রাকচারাল হার্ট বিশেষজ্ঞ, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস বলেন, “হৃদরোগের জরুরি অবস্থায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উপসর্গ শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছতে দেরি হওয়া। আতঙ্ক, সচেতনতার অভাব বা দ্রুত পরিবহণের অসুবিধার কারণে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। ‘ওয়ান স্ক্যান ক্যান সেভ আ লাইফ’-এর মতো উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি খুব সহজে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়। দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স সংযোগ এবং দ্রুত পরিষেবা সমন্বয়ের মাধ্যমে রোগীরা সময়মতো হৃদরোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা পেতে পারেন। জরুরি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করা এবং অসুস্থতার প্রথম লক্ষণ দেখেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা মৃত্যুর হার কমাতে সাহায্য করবে।”
ট্রমা ও অর্থোপেডিক জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে ডা. দেবাশিস চক্রবর্তী, ডিরেক্টর – অর্থোপেডিক্স, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রমাজনিত চোট এখনও বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ভাঙা হাড়, মেরুদণ্ডের আঘাত, মাথায় চোট এবং বিভিন্ন অর্থোপেডিক সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা খুবই জরুরি। সাম্প্রতিক ট্রাফিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসায় দেরি হলে স্থায়ী শারীরিক সমস্যা বা প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ে। দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা এবং সঠিক ট্রমা কেয়ার রোগীর জীবন বাঁচাতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‘ওয়ান স্ক্যান ক্যান সেভ আ লাইফ’-এর মতো উদ্যোগ রোগীদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পেতে সাহায্য করবে।”
উদ্যোগটি সম্পর্কে ডা. কিশেন গোয়েল বলেন, “যে কোনও মেডিক্যাল জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিটি সেকেন্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় রোগীর কাছে পৌঁছতে বা রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে আনতে দেরি হয়ে যায়। ‘ওয়ান স্ক্যান ক্যান সেভ আ লাইফ’ উদ্যোগটি প্রযুক্তির মাধ্যমে জরুরি পরিষেবাকে আরও সহজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। শুধু কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মানুষ সরাসরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন, নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে পারবেন এবং গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাবেন। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা বা অন্য যে কোনও হঠাৎ শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এই উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নয়, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরি করা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য, দ্রুত এবং কার্যকর করে তুলতে চায়।
জীবনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে এক জীবনরক্ষাকারী স্ক্যান: মণিপাল হসপিটালস ইস্ট-এর নতুন জরুরি পরিষেবা উদ্যোগ

