খ্যাতিমান ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী যজ্ঞসেনী চ্যাটার্জীর একক নৃত্য পরিবেশন হল কলকাতায়

কলকাতার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাতীয়ভাবে খ্যাতিমান ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী যজ্ঞসেনী চ্যাটার্জীর একক পরিবেশনা; ২০০৬ সালে পরিবেশনার পর, তিনি ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজের শহরে পরিবেশন করলেন। প্রখ্যাত অভিনেত্রী সোমা দে-র কন্যা যজ্ঞসেনী ডঃ থানকুমণি কুট্টির নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘কলা মণ্ডল’-এ এই পরিবেশনা করেন।

দুটি ভাগে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানে ছিল যজ্ঞসেনীর মনোমুগ্ধকর ভরতনাট্যম পরিবেশনা এবং নৃত্য, অভিনয় ও শিল্পকলার বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা। সোমনাথ কুট্টির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অভিনেত্রী সোমা দে এবং স্বয়ং যজ্ঞসেনী অংশগ্রহণ করেন। যজ্ঞসেনী ভারতের বিভিন্ন অংশে ভরতনাট্যম বিষয়ক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে নৃত্যের মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে কাজ করেন।

যাজ্ঞসেনী প্রখ্যাত ভরতনাট্যম গুরু ডঃ লক্ষ্মী রামস্বামীর গুরু-শিষ্য পরম্পরায় দীর্ঘকাল ধরে নৃত্য শিখছেন। দক্ষিণ ভারতে অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি ভরতনাট্যমের জগতে নিজের একটি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করেছেন।

কলকাতায় তাঁর প্রথম পরিবেশনা প্রসঙ্গে যাজ্ঞসেনী জানান যে, তাঁর মা সোম দে-র ছোটবেলা থেকেই নাচ ও অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান এবং ছবি আঁকার মধ্যে বড় হওয়া সত্ত্বেও, নৃত্যই তাঁর প্রধান সাধনা হয়ে থেকেছে। তিনি বিশেষভাবে তাঁর গুরু ডঃ লক্ষ্মী রামস্বামীর অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন যে, দক্ষিণ ভারতে তাঁর শৈল্পিক অনুশীলনের সময় মঞ্চে পরিবেশন করার জন্য তিনি অসংখ্য সম্মান ও সুযোগ পেলেও, নিজের শহরে এই প্রথম পরিবেশনাটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন।

এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে তিনি নানা যুগের কবিতায় নারীর উপস্থিতি, আবেগ এবং অনুভূতি তুলে ধরেছেন। প্রাচীন কবিতা থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর কাব্য পর্যন্ত, এই পরিবেশনাটি ছিল নৃত্যের ভাষার মাধ্যমে চিন্তার বিবর্তনকে তুলে ধরার এক অনন্য প্রচেষ্টা। এই ধারণাটি যে, ভাষা অব্যক্তের প্রকৃত প্রকাশে বাধা হতে পারে না, এবং নৃত্যে আবেগ ভাষা ও চিন্তাকে অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে ওঠে—তা এই পরিবেশনায় সুস্পষ্ট।

যাজ্ঞসেনী চ্যাটার্জী খুব শীঘ্রই কলকাতায় আরও নতুন প্রযোজনা নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *