কলকাতায় ঘোষিত হলো ‘শ্রী জগন্নাথ বিশ্বশান্তি মহাযজ্ঞ’

২১ মার্চ, ২০২৬:
যে মুহূর্তে বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, এবং আধুনিক জীবনের কোলাহলের মাঝে মানুষ খুঁজছে এক স্থির আশ্রয়—ঠিক তখনই পুরীর তটরেখা থেকে বাংলার হৃদয়ে এসে পৌঁছেছে এক গভীর আধ্যাত্মিক আহ্বান। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি এমন এক সময়ের প্রতি এক অর্থবহ আধ্যাত্মিক প্রত্যুত্তর, যখন ব্যক্তি ও সমাজ সম্মিলিতভাবে খুঁজছে স্থিতি, স্বচ্ছতা এবং অন্তরের শান্তি।
নতুন সূচনার এই যুগে, ‘শ্রী জগন্নাথ বিশ্বশান্তি মহাযজ্ঞ’ আবির্ভূত হয়েছে বৈদিক ঐতিহ্যের এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা হিসেবে—এক পবিত্র অগ্নিশিখা, যা ত্রেতা ও দ্বাপর যুগে প্রজ্জ্বলিত ছিল এবং এখন কলিযুগে পুনরায় প্রজ্বলিত হয়েছে মানসিক ও সামাজিক নিরাময় প্রদানের লক্ষ্যে।
বৈদিক ঐতিহ্যের সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, কলকাতা শহর ১৭ই এপ্রিল থেকে ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত সল্ট লেকের এফডি ব্লকে আয়োজন করতে চলেছে ‘শ্রী জগন্নাথ বিশ্বশান্তি মহাযজ্ঞ’।
পবিত্র প্রকাশ: ৩২টি দিব্য রূপের দর্শনলাভ
বাংলার মাটিতে এই প্রথমবার, পুরী মন্দিরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও রীতিনীতিসমূহ হুবহু ও নিখুঁতভাবে প্রতিরূপিত হতে চলেছে। শ্রদ্ধেয় দৈতাপতি বংশের প্রত্যক্ষ বংশধর, মহারাজ শ্রী দৈতাপতি ভবানী প্রসাদ দাস জি এই পূজার্চনার পৌরোহিত্য করবেন।
এই তিন দিনব্যাপী আধ্যাত্মিক সমাবেশের মূল আকর্ষণ হলো ভগবান জগন্নাথের ৩২টি দিব্য রূপে প্রকাশ বা দর্শনলাভ। আধ্যাত্মিক সাধকদের জন্য এটি এক বিরল সুযোগ—ভগবানকে তাঁর বহুবিধ মহিমাময় রূপে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ; যা প্রথাগতভাবে কেবল পুরী মন্দিরের গর্ভগৃহেই অনুভব করা সম্ভব হতো। এটি এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণ, যেখানে ‘পবিত্র ভূমি’ (পুরী) এসে মিলিত হয় ‘আনন্দ নগরী’র (কলকাতা) সাথে—সেতুবন্ধন রচনা করে দেবতা ও ভক্তের মাঝে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *