এভাবেও ফিরে আসা যায়: ক্যান্সার জয়ীদের নিয়ে আরও একবার ‘রঙ্গো ব্যঙ্গো’ মঞ্চস্থ করল মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস


কলকাতা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শেক্সপিয়রের নাটক ‘অ্যাজ ইউ লাইক ইট’-এর বিখ্যাত উক্তি — “সমগ্র পৃথিবীই একটি মঞ্চ, আর মানুষ মাত্রই সেই মঞ্চের অভিনেতা” — এই ভাবনাকে সামনে রেখে, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস, আশোকনগর নাট্যাননের সহযোগিতায়, উত্তম মঞ্চে তাদের বিশেষ নাট্য উদ্যোগ ‘রঙ্গো ব্যঙ্গো’-র আরেকটি শক্তিশালী পরিবেশনা উপস্থাপন করল।
‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ শীর্ষক এই আবেগঘন নাট্যপ্রযোজনায় ক্যান্সার জয়ীরা নিজেরাই মঞ্চে উঠে আসেন। তাঁদের জীবনের সংগ্রাম, যন্ত্রণা ও জয়ের গল্প রূপ নেয় এক অনন্য নাট্য অভিজ্ঞতায়। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেনের নির্দেশনায় ‘রঙ্গো ব্যঙ্গো’ মঞ্চস্থ হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাঁচটি ছোট নাটক — আর্য-অনার্য, নতুন অবতার, অন্ত্যেষ্টি সৎকার, অরসিকের স্বর্গপ্রাপ্তি এবং স্বর্গীয় প্রহসন — অবলম্বনে। হাস্যরস ও গভীর আবেগের মেলবন্ধনে এই প্রযোজনা ক্যান্সারের পর জীবনের আশা, সাহস এবং নানা রঙকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে।
এই নাট্যপ্রযোজনায় ক্যান্সার জয়ীদের পাশাপাশি অভিনয় করেন বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, মাসুদ আখতার এবং ঋত্বব্রত মুখোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন আশোকনগর নাট্যাননের শিল্পীরাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের বরিষ্ঠ চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা, যাঁরা এই অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগকে উৎসাহ ও সমর্থন জানান।
ক্যান্সার শুধুমাত্র শারীরিক নয়, মানসিক ও আবেগগতভাবেও গভীর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রায় আত্মবিশ্বাস, আত্মপরিচয় এবং মানসিক শক্তি ফিরে পাওয়াও সমান জরুরি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ২০২২ সালের ১৪.৬ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১৫.৭ লক্ষে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে, বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ৩৫ মিলিয়নে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘রঙ্গো ব্যঙ্গো’-র মতো উদ্যোগ মানসিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক সহায়তা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস ক্যান্সার জয়ীদের নিজেদের গল্প নিজের ভাষায় বলার একটি শক্তিশালী মঞ্চ দিয়েছে—যেখানে সংগ্রাম রূপ নেয় শক্তিতে এবং বেঁচে থাকা হয়ে ওঠে এক উদযাপন। পর্দা উঠতেই দর্শকাসন জুড়ে ওঠে প্রবল করতালি—যা শুধু একটি নাটকের সূচনা নয়, বরং মানব আত্মার জয়ের এক অনন্য মুহূর্ত।
রঙ্গো ব্যঙ্গোর নির্দেশক ও প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেন বলেন, “‘রঙ্গো ব্যঙ্গো’ পরিচালনা করা আমার জীবনের অন্যতম আবেগঘন ও তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা। এই নাটকের ৬৬টি চরিত্রের মধ্যে ১৫ থেকে ১৬টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাহসী ক্যান্সার জয়ীরা, যাঁরা জীবনের কঠিনতম লড়াই অতিক্রম করে এসেছেন। এই মঞ্চ শুধুমাত্র অভিনয়ের জায়গা নয়, এটি আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনের উদ্দেশ্য পুনরুদ্ধারের এক শক্তিশালী মাধ্যম। বেঁচে থাকার সীমা ছাড়িয়ে তাঁরা সাহসকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন।”
মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার (মুকুন্দপুর, সল্টলেক ও শিলিগুড়ি ক্লাস্টার)-এর ডিরেক্টর ডা. সৌরভ দত্ত বলেন, “প্রতিটি ক্যান্সার জয়ীই একজন যোদ্ধা, যার গল্প অসাধারণ। ‘রঙ্গো ব্যঙ্গো’-র মাধ্যমে আমরা তাঁদের কণ্ঠস্বর ফিরিয়ে দিতে চেয়েছি এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছি। যাঁদের অনেককেই আমি নিজে চিকিৎসা করেছি, তাঁদের মঞ্চে পারফর্ম করতে দেখা আমার কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতা। এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র নাট্যশিল্পের উদযাপন নয়, এটি জীবন, সাহস এবং অদম্য মানব আত্মার উদযাপন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *