লিভার দানের তিন বছর পর নতুন পরীক্ষা: জটিল হার্নিয়ার সফল চিকিৎসায় মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসে র সাফল্য


কলকাতা, ৫ জানুয়ারি ২০২৬: ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা নেটওয়ার্ক মণিপাল হসপিটালস গ্রুপ-এর অন্তর্গত মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস, ত্রিপুরা আগরতলার ৪৫ বছর বয়সী এক মহিলা রোগীর জটিল ও বড় ইনসিশনাল হার্নিয়ার সফল চিকিৎসা করেছে আধুনিক মিনিমালি ইনভেসিভ বা কী-হোল সার্জারির মাধ্যমে। রোগী নুপুর সরকার, পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস-এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও এইচওডি – রোবোটিক, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক, ব্যারিয়াট্রিক ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সার্জারি বিভাগের ডা. সুমন্ত দে-র তত্ত্বাবধানে ল্যাপারোস্কোপিক অ্যাবডোমিনাল ওয়াল রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি করান।
নুপুরের সাহসিকতার গল্প শুরু হয় তিন বছর আগে, যখন তাঁর স্বামীর লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। সেই সময় একমাত্র উপযুক্ত ডোনার হিসেবে নুপুর নিজের লিভারের একটি অংশ দান করে স্বামীর জীবন বাঁচান। তাঁর স্বামী এখন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তবে নুপুর নিজের শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে পেশাগত ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে ধীরে ধীরে আগের অস্ত্রোপচারের জায়গায় বড় ইনসিশনাল হার্নিয়ায় আক্রান্ত হন, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করে।
আরেকটি বড় ওপেন সার্জারির ভয় থেকে তিনি মিনিমালি ইনভেসিভ চিকিৎসার খোঁজ শুরু করেন এবং আগরতলা থেকে কলকাতায় মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসে আসেন। সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক দল নিশ্চিত করেন যে, হার্নিয়াটি জটিল হলেও উন্নত ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে এর সফল চিকিৎসা সম্ভব।
ডিসেম্বরের প্রথম দিকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ল্যাপারোস্কোপিক অ্যাবডোমিনাল ওয়াল রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি করা হয়। দক্ষ অ্যানেস্থেটিস্ট ও অভিজ্ঞ অপারেশন থিয়েটার টিমের সহায়তায় ডা. সুমন্ত দে সম্পূর্ণ কী-হোল পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। বড় কোনো কাটা ছাড়াই সার্জারি হওয়ায় শারীরিক আঘাত ও যন্ত্রণা অনেকটাই কম হয়।
এই বিষয়ে ডা. সুমন্ত দে বলেন, “আগে বড় পেটের অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে এমন জটিল ইনসিশনাল হার্নিয়া চিকিৎসা করা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তবে উন্নত ল্যাপারোস্কোপিক প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা কম ট্রমার মধ্যেই পেটের দেওয়াল পুনর্গঠন করতে পেরেছি। অ্যানেস্থেশিয়া থেকে জেগে উঠে রোগীর প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিই তো হয়েছে?’ যখন আমরা হ্যাঁ বললাম, তখন রোগীর মুখের স্বস্তি ও আনন্দ দেখেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়েছে।”
অস্ত্রোপচারের পর নুপুর সরকারের সুস্থ হয়ে ওঠা ছিল খুবই দ্রুত ও প্রায় ব্যথাহীন। চার ঘণ্টার মধ্যেই তিনি হাঁটাচলা শুরু করেন এবং পরের দিনই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। পনেরো দিন পর ফলো-আপে দেখা যায়, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে গেছেন।
নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুপুর সরকার বলেন, “স্বামীর জীবন বাঁচাতে লিভার দান করার পর আবার আরেকটি বড় সার্জারির কথা ভেবেই আমি ভীষণ ভয় পেতাম। মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসে এসে শুধু চিকিৎসাই নয়, মানসিক ভরসাও পেয়েছি। ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি হয়েছে জেনে আমার মনে হয়েছে যেন বুকের ওপর থেকে বড় একটা বোঝা নেমে গেছে। একই দিনে হাঁটতে পেরেছি, পরদিন বাড়ি ফিরেছি। ডা. সুমন্ত দে এবং পুরো টিমের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
এই সফল চিকিৎসা আবারও প্রমাণ করল যে, উন্নত ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে আগের বড় অস্ত্রোপচার হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রেও জটিল পেটের সমস্যা নিরাপদ ও কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। এটি মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস-এর রোগীকেন্দ্রিক, আধুনিক ও উচ্চমানের চিকিৎসা পরিষেবার প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *