কলকাতা, ২রা আগস্ট ২০২৫, : পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বি২বি (বিজনেস-টু-বিজনেস) প্রদর্শনী — ২২তম ইন্টারন্যাশনাল কলকাতা ফুডটেক ২০২৫ — ২ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত কলকাতার বিশ্ব বাংলা মিলন মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বেকারি, মিষ্টান্ন, দুগ্ধজাত পণ্য, আইসক্রিম ও আতিথেয়তা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ২০০-র বেশি দেশীয় ও ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড এই বৃহৎ তিনদিনব্যাপী প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবে। এই মেলাটি সাধারণ দর্শকদের জন্য একেবারেই নিঃশুল্ক।
food tech -2025

{মেগা ব্রেকারি মেশিং (এম বি এম)উড়িষ্যার বালেশ্বরে খগেন্দ্রনাথ দাসের হাত দিয়ে শুরু হয়েছিল। হাই স্পিড প্লানেটারি মিক্সচার হোক বা কুকিজ তৈরি করার মেশিন তৈরিতে তারা সিদ্ধহস্ত। পশ্চিমবঙ্গে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ঘটেছে। }

এই ইন্টারন্যাশনাল মেলার আয়োজন করেছে এন.কে. কাপুর অ্যান্ড কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড, এবং এটিকে সমর্থন করেছে পূর্ব ভারত হোটেল ও রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশন, অখিল ভারতীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা, ভারতীয় সুগন্ধ ও স্বাদ সংস্থা, ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া, পূর্ব ভারত কুলিনারি অ্যাসোসিয়েশন, এবং অন্যান্য শীর্ষ সংগঠনগুলি।

{এবারের ফুড টেকের বড় আকর্ষণ আফজল খানের জয়পুর বেক ইকুইপমেন্ট সংস্থাটি। তারা রোটারি র্যাক ওভেন থেকে শুরু করে কুকিজ ড্রপ, স্পাইরাল মিক্সচার বা প্লানেটারি মিক্সচার তৈরি করে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গে তাদের ব্যবসার পরিমাণ আগামী দিনে আরও বাড়বে। }
মিঃ জাকির হোসেন, চিফ কনভেনর ২২ তম ইন্টারন্যাশনাল ফুডটেক কলকাতা,২০২৫ বলেন “ফুডটেক মেলা এই অঞ্চলের খাদ্য শিল্পে আধুনিকীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পার্টনারশিপ গঠন, পণ্যের নতুনত্ব এবং বাজার সম্প্রসারণে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

{উড়িষ্যার তেজস্বিনী মহান্তীর দাশ ইলেকট্রনিক্স ফুড এবং ফার্মাক্ষেত্রে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করে থাকে। মেটাল ডিটেক্টর থেকে শুরু করে চেক ওয়েয়ার তারা তৈরি করে থাকেন। পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ জোর গতিতে চলছে। }
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ এবং টেকসই উদ্যোগ গ্রহণকারী স্টার্টআপ ও ছোট ব্যবসার জন্য এটি এক সুবর্ণ সুযোগ। ভারত সরকার যেসব নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করছে, তার ফলে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং প্যাকেজিং
প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশীয় ও ইন্টারন্যাশনাল স্তরে সম্ভাবনার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।”

{কুলদীপ সিংহের রতনপাল মেশিন প্রাইভেট লিমিটেড কুকিজ এবং রুটি তৈরির বিভিন্ন মেশিন তৈরি করে থাকে। তাদের সুগার গ্রাইন্ডার এবং ফ্লোর শিপ্টার যথেষ্ট কার্যকারী বেকারি শিল্পে। }
এই মেলা উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়, ক্রেতা-সরবরাহকারী সংযোগ, শিল্পগত প্রবণতা জানা ও নতুন বাজারে প্রবেশের পথ খুলে দেবে। ভারতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্ষেত্র, মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। মেলাটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বর্জ্য হ্রাস এবং টেকসই সম্পদের ব্যবহারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

{গাজিয়াবাদের অশোকা মেশিনস গ্যাস ওভেন, সুগার গ্রাইন্ডার এবং ফ্লোর শিপ্টার তৈরিতে সিদ্ধহস্ত। সংস্থার এমডি মোহিত কুমার জানান,তাদের মেশিন ভারতের বাইরে ভুটান নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া মালদ্বীপেও রফতানি হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ তাদের মেশিনের চাহিদা রয়েছে। }
তিনি আরও বলেন, “এই ইন্টারন্যাশনাল ফুডটেক মেলা স্থানীয় ব্যবসা গুলো কে আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং এবং অটোমেশন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তোলে। এতে করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারে এবং সর্বোত্তম চর্চাগুলি রপ্ত করতে পারে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্থানীয় উদ্যোক্তা, প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী জাতীয় ও ইন্টারন্যাশনাল অংশীদারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, ব্যবসায়িক চুক্তি, জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা করতে পারবেন। এর ফলে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিতরণ চুক্তি এমনকি রপ্তানি পর্যন্ত সম্ভব হতে পারে।”
প্রদর্শনী মূল আকর্ষণ
► ফোকাস ক্ষেত্র: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, প্যাকেজিং, বেকারি ও কনফেকশনারি, দুগ্ধ শিল্প (দুগ্ধ ও আইসক্রিম এক্সপো সহ), স্ন্যাকস, রেডি-টু-ইট খাবার, পানীয়, কোল্ড স্টোরেজ সিস্টেম, দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি ও রান্নাঘরের যন্ত্রাংশ
► দর্শক প্রোফাইল: ক্যাটারার, রেস্তোরাঁ চেইন, হোটেল মালিক, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থার, পরামর্শদাতা, উদ্যোক্তা ও শিল্প-সম্পৃক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী
► প্রদর্শক প্রোফাইল: খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থা, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহকারী, প্যাকেজিং ও কাঁচামাল সরবরাহকারী, আতিথেয়তা সমাধান প্রদানকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী
► স্টার্টআপ ও এমএসএমই-দের জন্য বিশেষ সুবিধা: স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র খাদ্য উদ্যোগগুলির জন্য এটি একটি মূল্যবান মঞ্চ যেখানে তারা নিজেদের পণ্য ও পরিষেবা উপস্থাপন করতে পারে এবং সম্ভাব্য ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। সরকারী সহায়তা প্রকল্পগুলির প্রসারও মেলার মাধ্যমে সহজতর করা হবে।
► বিশেষ অনুষ্ঠান: বেকারি ও কনফেকশনারি শিল্প নিয়ে সেমিনার, কুলিনারি প্যানেল আলোচনা, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সেশন এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনের লাইভ ডেমো।

