কলকাতা, ২৬ জুন: অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপ এবং চার্লস কোরিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সিটি সেন্টার সল্টলেকের ‘রয়্যাল বেঙ্গল রুম’-এ নবম ‘চার্লস কোরিয়া মেমোরিয়াল লেকচার’ অনুষ্ঠিত হলো। স্থাপত্য, নতুন ভাবনা ও উত্তরাধিকারের ওপর নিবেদিত এই সন্ধ্যায় স্থপতি, শিক্ষার্থী, নকশা-পেশাজীবী এবং চিন্তাবিদগণ একত্রিত হয়েছিলেন।
ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী স্থপতি চার্লস কোরিয়ার স্মরণে প্রবর্তিত এই বার্ষিক বক্তৃতা-মালাটি নকশা, নগর-পরিকল্পনা এবং জনজীবন গঠনে স্থাপত্যের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এ বছরের মূল বক্তা ছিলেন প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি মারলন ব্ল্যাকওয়েল; ভূ-প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটের সঙ্গে গভীর সংযোগের জন্য তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নিওটিয়া, মধু নিওটিয়া, মারলন ব্ল্যাকওয়েল এবং স্থাপত্য জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। হর্ষবর্ধন নিওটিয়া উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান এবং মারলন ব্ল্যাকওয়েলের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ব্ল্যাকওয়েল তাঁর নকশা-দর্শন ও পেশাগত যাত্রার নানা দিক তুলে ধরেন এবং তাঁর সর্বাধিক প্রশংসিত কিছু কাজের নিদর্শন উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হর্ষবর্ধন নিওটিয়া বলেন, “চার্লস কোরিয়া কেবল একজন স্থপতিই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব, যিনি স্থান, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারাকে বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর কাজ প্রমাণ করেছে যে, স্থাপত্য নিজস্ব প্রেক্ষাপট ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত থেকেও অত্যন্ত সমসাময়িক হয়ে উঠতে পারে। এই বক্তৃতা-মালার মাধ্যমে আমরা সেই চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই; এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চাই যেখানে বিভিন্ন ধারণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্থপতি, নকশাকার ও নগর-নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।”
‘আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেক্টস’-এর ফেলো (FAIA), মর্যাদাপূর্ণ ‘২০২০ এআইএ (AIA) গোল্ড মেডেল’-এর প্রাপক এবং ইউনিভার্সিটি অফ আরকানসাসের বিশিষ্ট অধ্যাপক মারলন ব্ল্যাকওয়েল সমসাময়িক স্থাপত্যের জগতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর কর্মজীবনে তিনি ২১৫টিরও বেশি নকশা-পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁর প্রকল্পগুলোতে মানুষ, স্থান ও উদ্দেশ্যকে নকশার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়। চার্লস কোরিয়ার কথা স্মরণ করে ব্ল্যাকওয়েল বলেন, “চার্লস কোরিয়া এমন একটি বিষয় অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যা আয়ত্ত করতে অনেক স্থপতিই তাঁদের সারা জীবন ব্যয় করেন—আর তা হলো, সবচেয়ে অর্থবহ ভবনগুলো আসলে সেগুলোর বাসিন্দাদেরই। তাঁর স্মৃতিতে এবং তাঁর রেখে যাওয়া কীর্তিকে উদযাপনকারী এই শহরে বক্তব্য রাখা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়।”
এই বক্তৃতা আয়োজনের শুরু থেকেই যাঁরা এতে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের সেই বিশিষ্ট তালিকায় যুক্ত হলেন ব্ল্যাকওয়েল। এর আগের আয়োজনগুলোতে বিশ্বখ্যাত স্থপতিরা অংশ নিয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পিটার স্টাচবেরি, আন্দ্রা মাতিন, বৃন্দা সোমায়া, বিভূতি মান সিং, সি. আঞ্জালেনদ্রান, কে. টি. রবীন্দ্রন, সঞ্জয় মোহে, ইয়ুং হো চ্যাং, কাশেফ চৌধুরী, উদয় জোশি, রিচার্ড হ্যাসেল, কামাল হাদকার, সোলানো বেনিতেজ এবং রাহুল মেহরোত্রা।
অম্বুজা নিওটিয়া নবম ‘চার্লস কোরিয়া মেমোরিয়াল লেকচার’-এর আয়োজন করল

