কলকাতা: তামাকাসক্তির বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কলকাতার অন্যতম বৃহৎ জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের আয়োজন করল শহরের শীর্ষস্থানীয় ফিটনেস ও সুস্থতা বিষয়ক সংস্থা সৌমেন’স ওয়ার্কআউট। জাগো ইন্ডিয়া জাগো ফিটনেস ক্যাম্পেইন-এর সহযোগিতায় রবিবার সফলভাবে আয়োজিত হলো বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস সচেতনতা র্যালি-র ১৬তম সংস্করণ।
“আকর্ষণের মুখোশ উন্মোচন – নিকোটিন ও তামাকাসক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ”— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালিটি শুরু হয় এসপ্ল্যানেডের রানি রাসমণি রায় মোড় থেকে এবং শেষ হয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন শতাধিক ফিটনেসপ্রেমী, ছাত্রছাত্রী, যুব স্বেচ্ছাসেবক, সমাজকর্মী এবং স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিক।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নাটকীয়ভাবে উপস্থাপিত “তামাক ভূত”, যার ভয়াবহ দৃশ্যায়নের মাধ্যমে তামাকাসক্তির মারণগ্রাসকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। এই অভিনব উপস্থাপনা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও সচেতনতামূলক বার্তা বহন করেন, মানববন্ধন গড়ে তোলেন এবং তামাকমুক্ত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করার শপথ গ্রহণ করেন।
এই প্রচারাভিযানে জনস্বাস্থ্যের একাধিক উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে ২০১৯ অনুযায়ী, ভারতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৮.৪ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া শিশু তামাক ব্যবহার করে। অন্যদিকে, তামাকজনিত রোগের কারণে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩,৬০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক সেবনের ফলে ক্যানসার, হৃদ্রোগ, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসজনিত রোগ, স্ট্রোকসহ একাধিক প্রাণঘাতী অসুস্থতার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হন ধূমপান না-করা মানুষও, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা।
এই উপলক্ষে সৌমেন’স ওয়ার্কআউট-এর কর্ণধার শ্রী সৌমেন দাস বলেন, “টানা ষোলো বছর ধরে এই র্যালি শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি সামাজিক পরিবর্তনের এক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তামাকের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয় সচেতনতা ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের মাধ্যমে। যদি আমরা একজন তরুণকেও আসক্তির পথ থেকে সরিয়ে সুস্থ জীবন ও ফিটনেসের পথে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে পারি, তবে একটি সুস্থ, শক্তিশালী ভারত গড়ার লক্ষ্যে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।”
আয়োজকরা জানান, বার্ষিক এই র্যালির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস, স্থূলতাবিরোধী দিবস এবং দেশব্যাপী জাগো ইন্ডিয়া জাগো অভিযানের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও ফিটনেস সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

